সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড ২০২৫–২০২৬ – সম্পূর্ণ ট্রাভেল প্ল্যান, খরচ, রুট ও টিপস

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড ২০২৫–২০২৬ - সম্পূর্ণ ট্রাভেল প্ল্যান, খরচ, রুট ও টিপস

আমাদের Beauty Booth টিমের এবারের অফিস ট্যুরের গন্তব্য ছিল প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এটা শুধু সাধারণ আর একটা ব্লগ না, এটা আমাদের অভিজ্ঞতা যা আমরা চাই আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে। আপনার আগামী সেন্টমার্টিন যাবার জন্য এটি হতে পারে বেস্ট সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড।

এই শহরের ধুলোবালি ছেড়ে গিয়েছিলাম নীল সমুদ্রের কাছে, একটু প্রশান্তির খোঁজে। আমরা ঘুরেছি, থেকেছি তার উপরে ভিত্তি করেই আপনাদের জন্য এই পুরো সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড সাজানো হয়েছে। আমাদের আজকের ব্লগের আলোচ্য বিষয় হলো সম্পূর্ণ গাইড যাতে আপনি আপনার আগামী ভ্রমণটা একদম ভালোভাবে শেষ করতে পারেন।

সেন্টমার্টিন কোথায় এবং কেন ভ্রমণ করবেন?

সেন্টমার্টিন দ্বীপের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড বুঝতে হলে আগে জানুন, সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যাকে সবাই ভালোবেসে দারুচিনি দ্বীপ নামেও চেনে। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলো দূরে এই অপরূপ সুন্দর সেন্টমার্টিন দ্বীপ। 

আমাদের ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী, বাংলাদেশে সবচেয়ে সুন্দর ও জনপ্রিয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম সেন্টমার্টিন। সমুদ্রের বিশালতার সাথে নিজেকে মিশিয়ে নেবার জন্য সেরা একটি স্থান। শুধু সমুদ্র আর প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, এটি একটি অনন্য গন্তব্য নিজেকে সময় দেবার নিজেকে নিজের একটু সময় দেবার। 

করাল রিফ, নীল পানির ঢেউ, অসাধারণ সি-ফুড এবং শীতল সমুদ্র বাতাস, এগুলোই এই দ্বীপের মূল আকর্ষণ। আপনি যদি একটি সুন্দর ও সঠিক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড তৈরি করতে পারেন, তাহলে সেখানে থাকার প্রতিটি মুহূর্ত আপনার জন্য হয়ে উঠবে উপভোগ্য ও স্মৃতিময়। 

২০২৫–২০২৬ সালে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের কারণ

আমাদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী এই সময়ে সেন্টমার্টিন কেন যাবেন, এর উত্তর আসলে একটা নয়, কয়েকটি – 

  • এই সময়ে দারুচিনি দ্বীপ ভ্রমণ করার অন্যতম কারণ হলো কম ভিড় ও শান্ত পরিবেশ।
  • এবারে পর্যটক সংখ্যার নিয়ন্ত্রণ এর কারণে ভিড় ও বিসৃঙ্খলার আশঙ্কা খুব কম। 
  • নতুন রুট ও আরও উন্নত পর্যটন সুবিধা এর কারণে যাতায়াত এবার অনেক বেশি নিরাপদ ও সহজ হয়ে উঠেছে।
  • এবারে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিরাপত্তা আগের থেকেও আরও বেশি কঠোর, সর্বদা কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। 
  • শীতে সময় ঠান্ডা হাওয়া আর সৈকতের অসীম নীল সৌন্দর্যের কারণের আপনার একবার সেন্টমার্টিন যাওয়া দরকার।

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন শিপ রুট

বর্তমানে সেন্টমার্টিন যাবার জন্য একমাত্র মাধ্যম হলো কক্সবাজার জেটি ঘাট। বাংলাদেশের টেকনাফ – মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্তে সংঘাতের কারনে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে আপাতত আর নুনিয়াছড়া চলাচল করবে না। টেকনাফের পরিবর্তে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে শিপ চলাচল করবে।

সরকারি নির্দেশনা (২০২৫–২০২৬)

এই সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড ফলো করলে দেখবেন, এবার সেন্টমার্টিন যাবার জন্য কিছু সরকারি নির্দেশনা আছে, যা মানা উচিত। ২০২৫–২০২৬ সালে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি নির্দেশনা জানা খুব জরুরি। নিচে দিয়ে দিচ্ছি অবশ্যই সেন্টমার্টিন ভ্রমণ এর আগে এগুলো মানতে ভুলবেন না।

  • সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে NID বা পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক।
  • কোস্টগার্ড নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি যাত্রীর জন্য লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
  • সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া নিষিদ্ধ।
  • সেন্টমার্টিন যাওয়ার নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে জেটিতে প্রবেশ সীমিত।

সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায় (২০২৫ – ২০২৬ আপডেটেড রুট)

সেন্টমার্টিন যাবার রাস্তা এবার ২০২৫-২০২৬ সালে পরিবর্তন হয়েছে। আগের রুট বাদ দিয়ে এখন নতুন রুট শুরু হয়েছে সেন্টমার্টিন যাবার জন্য। নিচে বিস্তারিত ভাবে সব দিয়ে দিচ্ছি –

ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন

  • ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন রুট অনুযায়ী সরাসরি শিপ নেই। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন রুট ফলো করলে বাস, ট্রেন বা প্লেন, তিনটাই অপশন থাকে।

চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন

  • চট্টগাম থেকে বাসে বা নিজস্ব কোনো প্রাইভেট ভেহিকেলে কক্সবাজার আসা সহজ, এরপর সেখান থেকে শিপ নিলে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। আগে টেকনাফ থেকে শিপ ছাড়তো এবং ২ থেকে ৩ ঘন্টা লাগতো কিন্তু এখন কক্সবাজার থেকে যাবার কারণে সময় একটু বেশি দরকার হয়।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন

  • এখন সকল শিপ সরাসরি কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যায়। এটাই বর্তমানে খুব জনপ্রিয় এবং একমাত্র রুট। শিপে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যেতে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা লাগে, তবে আপনি স্পিড বোট নিয়ে 

জেটি/শিপের সময়সূচি ও ভাড়া

এবার সেন্টমার্টিন এর সকল শিপ, ট্রলার, এবং স্পিডবোট সরাসরি কক্সবাজার জেটিঘাট থেকে ছেড়ে যাবে। লম্বা সময়ের যাত্রা হবার কারণে হালকা খাবার বহন করতে পারেন, সাধারণত শিপের ক্যান্টিনে থাকা খাবারের দাম কয়েকগুন বেশি হয়ে থাকে। 

  • আমাদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী সকাল ৭:৩০–৯:৩০ এর মধ্যে মোটামুটি সব শিপ রওনা দেয়। ( বি.দ্র.ঃ – কিছু কিছু শিপ পাশাপাশি থাকবার কারণে একটির ভিতর দিয়ে আর এক শিপে যেতে হয় তাই অবশ্যই নিজের টিকিট পুনরায় চেক করুন। ক্রয়কৃত টিকিট দেখে নিজ শিপে উঠুন, বুঝে অসুবিধা হলে শিপে সাহায্যকারীদের থেকে জেনে নিন )
  • সেন্টমার্টিন থেকে ফিরবার সময় বিকাল ৩ টা থেকে ৪ঃ৩০ এর মধ্যে থাকে, তবে চেষ্টা করুন ৩ঃ৩০ এর মধ্যে ঘাটে থাকার।

২০২৫–২০২৬ নতুন শিপ/ক্রুজ আপডেট

এই সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী ২০২৫–২০২৬ সালে নতুন লঞ্চ/ক্রুজ যোগ হয়েছে। এর মাঝে অনেক বিলাসবহুল থেকে ভালো মানের টিকিট কেনার সুবিধা রয়েছে। যাবার আগে থেকে টিকিট কেটে রাখলে খরচ কম হয়। টিকিট কাটবার সময় কিছু টিপস দিই যা আপনার বিবেচনা করা দরকার –

  • সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড টিপস: ৬–৭ ঘণ্টার যাত্রায় ভিউ উপভোগ করতে চাইলে সান-ডেকে টিকিট নিতে পারেন। এটি সাধারণত শিপের ২য় তলায় খোলা জায়গায় থাকে। তবে ডেকের সামনের সিটে রোদ বেশি লাগে, তাই একটু পেছনের সিট নিন। শীতের সূর্য উপভোগ করতে চাইলে সানস্কিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না, না হলে ট্যান পড়ে যেতে পারে।
  • আর যদি একটু আরাম করে, রুমে বসে শিপ যাত্রা অনুভব করতে চান তবেও বেশ অনেকগুলো বিকল্প শিপ আছে যাদের এসি-নন এসি রুম রয়েছে। 
  • শেষ টিপস থাকবে, অনেক অনেক ছবি তুলুন, সমুদ্র ও রোদ মিশিয়ে প্রতিটি ছবি খুবই সুন্দর আসে।

সরকারি নির্দেশনা (২০২৫–২০২৬)

কিছু সরকারি নির্দেশনা আছে যা আমাদের সবাইকে মেনে চলা উচিত, এতে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অটুট থাকবে, আর আমাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।

  • সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
  • অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
  • নির্ধারিত সময়ের আগে জেটিতে প্রবেশ সীমিত।
  • নিজের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র বহন করুন।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের খরচ (২০২৫-২০২৬ বাজেটের বিবরণ)

পরিকল্পনা ছাড়া ভ্রমণ করাটা কখনোই স্মরণীয় হয় না, সাথে পরবর্তীতে আবার সমস্যার সম্মুখীনও হতে হয়। তাই সেন্টমার্টিন যাবার পূর্বে একটি সুন্দর সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড তৈরি করে ফেলুন। ২০২৫–২০২৬ সালে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ খরচ কেমন হতে পারে তার বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো। ( সময় ও নিয়ম ভেদে খরচ বাড়তে বা কমতে পারে )  – 

শিপ/ক্রুজ ভাড়া

শিপ / ক্রুজ ভাড়া নির্ভর করে শিপের সাইজের উপরে বা আপনি শিপের কোনো তলায় সিট বুক করতে চাচ্ছেন তার উপরে। 

MV Karnafuly Express

একটু আরামদায়ক, ফ্যামিলি বা অফিস টিম-ফ্রেন্ডলি শিপ খুঁজে থাকলে MV Karnafuly Express হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। ঘাট থেকে সকাল ৭ থেকে ৯ টার ছেড়ে দেয় এবং যেতে সময় লাগে ৫-৬ ঘন্টা। 

MV Karnafuly Express ( এম ভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস ) এর বসার ধরণ ও ভাড়া ( রাউন্ড ট্রিপ / ওয়ান ওয়ে )

Seat/Cabin Type VIP/Higher Price (টাকা) Normal/Lower Price (টাকা) Notes
Lavender VIP Seat ৩,৫০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ১,৮০০ (ওয়ান ওয়ে)
Open Deck ৪,০০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ২,১০০ (ওয়ান ওয়ে)
Gladiolus VIP ৫,০০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ২,৬০০ (ওয়ান ওয়ে)
Lilac Lounge ৫,৩০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ২,৭০০ (ওয়ান ওয়ে)
Chrysanthemum Lounge ৫,৬০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ২,৯০০ (ওয়ান ওয়ে)
Single Cabin ৬,৫০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ৩,৩০০ (ওয়ান ওয়ে)
Twin Cabin ১৩,০০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ৭,০০০ (ওয়ান ওয়ে) দুই জনের জন্য
VIP Cabin ১৬,০০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ৮,৫০০ (ওয়ান ওয়ে) দুই জনের জন্য
VVIP Cabin ২০,০০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ১০,৫০০ (ওয়ান ওয়ে) দুই জনের জন্য
  • দাম বাড়তে বা কমতে পারে।

MV Baro Awlia

এটি সেন্টমার্টিন যাত্রার জন্য তুলনামূলক নতুন শিপ এবং সার্ভিসও ভালো। সাধারণত কক্সবাজার থেকে সকাল ৯:৩০ AM-এ ছাড়ে এবং বিকেল ৩ – ৩ঃ৩০ এর মধ্যে পৌঁছে যায়।

MV Baro Awlia ( এম ভি বার আউলিয়া ) এর বসার ধরণ ও ভাড়া ( রাউন্ড ট্রিপ / ওয়ান ওয়ে )

Seat/Cabin Type VIP/Higher Price (টাকা) Normal/Lower Price (টাকা) Notes
Mozarat Chair ৪,৩০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ২,২০০  (ওয়ান ওয়ে)
Riviera Business Chair ৪,০০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ২,১০০ (ওয়ান ওয়ে)
Panorama Business Chair ৪,০০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ২,১০০ (ওয়ান ওয়ে)
Main Deck Seat ৩,৫০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ১,৮০০ (ওয়ান ওয়ে)
Sun Deck Seat ৩,৫০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ১,৮০০ (ওয়ান ওয়ে)
Bunker Bed ৪,১০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ৮,০০০ (ওয়ান ওয়ে) দুই জনের জন্য
Delux Cabin ১৩,০০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ৭,০০০ (ওয়ান ওয়ে) দুই জনের জন্য
Family Bunker Cabin ১৬,০০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ৮,৫০০ (ওয়ান ওয়ে) চার জনের জন্য 
VIP Cabin ১৬,০০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ৮,৫০০ (ওয়ান ওয়ে) দুই জনের জন্য
VVIP Cabin ২০,০০০  (রাউন্ড ট্রিপ) ১০,৫০০  (ওয়ান ওয়ে) চার জনের জন্য 
  • দাম বাড়তে বা কমতে পারে।

MV Bay Cruiser 1 (Bay One Cruise)

বিলাসবহুল এক্সপেরিয়েন্স এর সাথে যদি দ্রুত সেন্টমার্টিন পৌছাতে চান তবে এটা খুব দারুণ একটা অপশন। একটি বিলাসবহুল ক্যাটামারান, যা ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে সেন্টমার্টিন পৌঁছে যাবেন।

Seat/Cabin Type VIP/Higher Price (টাকা) Normal/Lower Price (টাকা)
Basic deck ১,৭৫০ (রাউন্ড ট্রিপ) ৯০০ টাকা  (ওয়ান ওয়ে)
Premium Class ৩,৫০০ (রাউন্ড ট্রিপ)  ১৮০০ টাকা  (ওয়ান ওয়ে)
  • দাম বাড়তে বা কমতে পারে।

Keari Sindbad

Keari Sindbad এবং Keari Cruise & Dine হলো পরিচিত স্ট্যান্ডার্ড ফেরি সার্ভিস। এখানে বেসিক ডেক থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম সিট পর্যন্ত পাওয়া যায়।

Keari Sindbad ticket pricing –

Seat/Cabin Type Higher Price (টাকা)
Bridge Deck (2nd Floor) ৪,৫০০
Open Deck (2nd Floor) ৪,০০০
Main Deck (1st Floor) ৩,৫০০

 

KEARI Cruise & Dine ticket pricing –

Seat/Cabin Type Higher Price (টাকা)
Pearl Lounge (2nd Floor) ৫,০০০
Coral Lounge (1st Floor) ৪,৫০০
Exclusive Lounge (Basement) ৪,০০০

হোটেল ও রিসোর্ট খরচ

এই সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী আগে রাতে থাকা যেত না, কিন্তু এখন কিছু ক্ষেত্রে সম্ভব, যদি আপনার রাতে থাকা দরকার তবে আপনার আগে থেকেই রিসোর্ট, কটেজ ও হোটেল বুকিং করে রাখতে হবে। সেন্টমার্টিনে বেশ অনেকগুলো এবং অনেক রকমের রিসোর্ট, কটেজ, এবং হোটেল আছে। তবে চেষ্টা করুন সী-বিচ ফেসিং রিসোর্ট নেবার জন্য। সমুদ্রের বাতাস এর সাথে মাচায় সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার মজাই আলাদা। আমাদের ট্যুরের অন্যতম মজার বিষয়ই ছিল মাচায় বসে সারারাত আড্ডা আর ফিশ বারবিকিউ। 

  • সেন্টমার্টিনের বুকিং দেবার সময় তার দূরত্ব, রেস্টুরেন্ট আছে কিনা, নিরাপত্তা আছে কিনা সাথে অন্যান্য সুবিধা সব দেখে নেয়া দরকার।
  • রুম ভাড়া করার সময় অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে নিবেন।
  • ছুটির দিনে যাবার সময় অবশ্যই আগে থেকে বুকিং দিয়ে যাওয়া ভালো, না হলে পরবর্তীতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

হোটেল সমূহ এবং খরচ

১. Blue Lagoon Beach Resort – Saint Martin’s Island

খুবই সুন্দর একটি রিসোর্ট, ফ্যামিলি বন্ধু-বান্ধব ও একটা সুন্দর সময় কাটানোর জন্য খুব ভালো একটা জায়গা। খোলা মাচায় বসে সমুদ্রের হাওয়া এর সাথে সমুদ্র উপভোগটা বলে বোঝানোর মতো নয়। রাত্রে জোয়ারের সময় যখন সমুদ্রের ঢেউ বাড়ি খাবে শব্দটা প্রাণ জুড়ে দেয়। এই রিসোর্টে রুম প্রতি খরচ হবে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা, আর সাথে মজাদার খাবার বাবদ ১,৫০০ থেকে ১,৭০০ টাকা। 

২. Sand Castle Beach Resort, Saint Martin’s Island

সমুদ্র পাড়ে একটি প্রিমিয়াম জায়গার জন্য বেস্ট অপশন এই রিসোর্ট। বিচ পাড়ে হবার কারণে সমুদ্রে বাতাস আর দৃশ্য খুবই খুবই ভালো লাগে। এর আশেপাশের মনোরম গাছপালা আর সমুদ্র বরাবর রুম আর বারান্দা যেন ভ্রমণের মজা আরো বাড়িয়ে তোলে। এই রিসোর্টে রুম প্রতি খরচ হবে ৮,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা।

৩. সীমানা পেরিয়ে রিসোর্ট

সেন্টমার্টিনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি রিসোর্ট, চোদ্দটি রুম ও একটি রেস্টুরেন্ট সহ একটি রিসোর্ট। এই রিসোর্টে রুম প্রতি খরচ হবে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা।

৪. Coral View Resort

বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত একটি খুবই জনপ্রিয় ও নিরিবিলি একটি রিসোর্ট। এটি দ্বীপের পূর্ব পাশে অবস্থিত, খুবই চমৎকার সি-ভিউ, মনোরম পরিবেশ ও নিরাপত্তা পাওয়া যায়।  এই রিসোর্টে সি-ভিউ রুমের ভাড়া সাধারণত ২৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। 

৫. নোঙর ইকো বীচ রিসোর্ট

খুবই সুন্দর ছোট ছোট ঘরসহ একটি রিসোর্ট, সেন্টমার্টিনের অন্যতম আকর্ষণীয় রিসোর্ট এটি। ঘুরার, রিল্যাক্সিং, ও ছবি তোলার এর জন্য এটি খুবই সুন্দর একটি রিসোর্ট। এতে আবার রয়েছে একটি সুইমিংপুল সাথে গাছ ও বিশাল সমুদ্র। এই রিসোর্টে রুমের ভাড়া সাধারণত ৮,০০০ থেকে ১১,০০০ টাকার মধ্যে।

খাবারের খরচ (ব্রেকফাস্ট/লাঞ্চ/ডিনার)

সেন্টমার্টিনে বেশির ভাগ রিসোর্টের সাথেই খাবার সুবিধা থাকে। এর পরেও আপনি যদি বাহিরে খাবার গ্রহণ করতে চান তবে অনেক জায়গা রয়েছে। 

  • সাধারণত পরোটা ডিম ভাজি সহ নাস্তা পড়বে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
  • লাঞ্চ এর জন্য সামুদ্রিক মাছ সহ অন্যান্য খাবার এর দাম ২৫০ থেকে ৩০০ এর মধ্যেই সেরে যাবে।
  • ডিনারে ফিশ বার-বি-কিউ ট্রাই করতে পারেন, এতে মাছ ভেদে দাম ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, তবে কয়েক জায়গা ঘুরে দরদাম করে নিতে হবে।

জনপ্রিয় ট্যুর প্যাকেজ (১ দিন / ২ দিন / কাপল / ফ্যামিলি প্যাকেজ)

বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের জনপ্রিয় ট্যুর প্যাকেজ পাওয়া যায়, ১ দিন, ২ দিন, কাপল বা ফ্যামিলি। অনেক এজেন্সি আছে যারা আপনার পছন্দমতো একটি সেন্ট মার্টিন ট্যুর প্যাকেজ তৈরি করে দিবে আপনাকে। আপনি সেন্টমার্টিন কতোদিন থাকবেন কি কি করবেন তার উপরে ভিত্তি করে তারা প্যাকেজ তৈরি করে। 

বর্তমানে অনেক সেন্টমার্টিন ট্যুর প্যাকেজ রয়েছে, ১ দিন, ২ দিন, কাপল কিংবা ফ্যামিলি প্যাকেজ পর্যন্ত। এগুলো আগে থেকে বুক করলে খরচ কম হয়।

কয়দিন/রাত থাকবেন খরচ (টাকা)
১ রাত ২ দিন ( কাপল ) ৭,০০০ থেকে ৮,৫০০ টাকা
২ রাত ৩ দিন ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা
১ রাত ২ দিন ( শেয়ারিং )  ৭,০০০ থেকে ৮,৫০০ টাকা

 

সেন্টমার্টিনে কোথায় কোথায় ঘুরবেন? (টপ আকর্ষণ)

শান্ত পরিবেশ আর নিরাপত্তার কারণে সেন্টমার্টিন একা ভ্রমণের জন্য সেরা জায়গা হিসেবে পরিচিত। তবে সেখানে গিয়েও আপনি আরও কিছু স্থান এক্সপ্লোর করতে পারেন। আমাদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী টপ আকর্ষণগুলো নিচে দিলাম। সেন্টমার্টিনের ঘোরা জায়গা গুলো হলো – 

সেন্টমার্টিনে কোথায় কোথায় ঘুরবেন? (টপ আকর্ষণ)

চকচকে নীল পানি ও প্রবাল সৈকত

সেন্টমার্টিনের চকচকে নীল পানি, শৈবাল, আর বিশালতা আপনার মনকে ছুঁতে বাধ্য। এটা কোনো বলার জন্য বলা নয় সেন্টমার্টিনের দৃশ্য আপনাকে অনায়াসেই মোহিত করে ফেলবে। সেন্টমার্টিন এর প্রবাল সৈকত আমাদের বিশালতা শিখায় আর আপনার জীবনে একটি সুন্দর স্মৃতি তৈরি করে।

সেন্টমার্টিন রাতের নক্ষত্র-দেখা স্পট

রাতের আকাশ যেন আরও বেশি সুন্দর দেখায় সেন্টমার্টিনে। রাতে বিচের পাড়ে সমুদ্রের গর্জন আর রাতের আকাশের শত শত নক্ষত্র ঝলমল এই অভিজ্ঞতা খুব কম জায়গাতেই খুঁজে পাবেন। যারা নিরিবিলি সময় চান, তাদের জন্য এই অভিজ্ঞতা সেন্টমার্টিনকে একা ভ্রমণের জন্য সেরা জায়গা করে তোলে।

জনপ্রিয় ফটোস্পট (যা অবশ্যই মিস করা যাবে না)

সেন্টমার্টিনের সব জায়গায়ই এক একটা ইনস্টাগ্রাম-ফ্রেন্ডলি। এর পরেও জনপ্রিয় কিছু জায়গায় ছবি তুলে রাখতে পারেন, স্মৃতির জন্য। আপনার সেন্টমার্টিনের ছোট্ট একটি বিচ্ছিন্ন অংশ ঘুরে দেখতে পারেন, যেমন প্রবাল দ্বীপ, ছেঁড়া দ্বীপ ডায়মন্ড বিচ, লাস্ট বিচ, এবং সী-গাল বিচ উপভোগ করতে পারেন; এছাড়া, স্পিডবোট বা ট্রলারে করে দ্বীপের চারপাশ ঘুরে বেড়াতে পারেন। 

ড্রোন ফটোগ্রাফি (যদি অনুমতি দেওয়া হয়)

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড সতর্কতা – ড্রোন শট অনুমতি সাপেক্ষ এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়, কারণ এটি একটি স্পর্শকাতর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের এলাকা; পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা রয়েছে।

ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণ গাইড (২০২৫–২০২৬)

ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণে কিছু নিয়ম আছে। যা আমাদের মানতে হবে তা হলো –

  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রবেশ করতে হবে।
  • প্রবাল স্পর্শ করা বা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ।
  • প্লাস্টিক ব্যবহার করা যাবে না।
  • প্লাসটিক সমুদ্রে ফালানো যাবে না।
  • উচ্চ জোয়ারের সময় পানিতে নামা এড়াতে হবে।

সেন্টমার্টিনে কী খাবেন? জনপ্রিয় খাবার তালিকা

দারুচিনি দ্বীপ হিসেবে পরিচিত সেন্টমার্টিনে সামুদ্রিক মাছপ্রেমীদের জন্য স্বর্গ। সেন্টমার্টিনের অলিতে গলিতে শুধু সী-ফুড আর সী-ফুড। সেন্টমার্টিন সি-ফুড এই দ্বীপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, কী কী খাবেন তা নিচে দেয়া আছে –

তাজা সি-ফুড

সেন্টমার্টিনের পাওয়া যায় তাজা সকল সমুদ্রের মাছ, খেতে ভুলেও ভুলবেন না। মজাদার এর সাথে সাথে এখানে প্রচুর প্রোটিন থাকে।

কোরাল কারি

কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে, সেন্টমার্টিনের কোন খাবারটা ট্রাই করতেই হবে তাহলে উত্তর একটাই – কোরাল কারি। সেন্টমার্টিন সি-ফুড আইটেমগুলোর মধ্যে কোরাল কারি সবচেয়ে জনপ্রিয়। কোরাল মূলত সামুদ্রিক মাছ সাথে স্থানীয় মসলা ব্যবহার করা হয় যা কারিকে আরও বেশি মজাদার করে তোলে। যদি আপনি সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড দেখে খাবারের লিস্ট বানান, কোরাল কারি অবশ্যই আপনার “Must Try” তালিকায় রাখবেন।

স্থানীয় নাস্তা

দ্বীপ ঘুরে ঘুরে ছোট দোকানগুলোতে সকালের নাস্তা সেরে নিতে পারেন। প্রতিদিনের রুটি ভাজি বাদ দিয়ে গরম পিঠা ট্রাই করতে পারেন। লোকাল নাস্তাগুলোর একটা আলাদা চার্ম আছে। দামও তুলনামূলক কম, আর স্বাদটা ঘরোয়া টাইপের। যারা দারুচিনি দ্বীপ ভ্রমণ করতে যান, তারা সাধারণত এই লোকাল নাস্তাগুলো বেশ এনজয় করেন।

কোথায় ভালো খাবার পাওয়া যায়?

যারা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড খুঁজছেন, তাদের কমন প্রশ্ন, ভালো খাবার কোথায় খাবো? আমরা লাঞ্চ, ডিনার যদিও আমাদের রিসোর্টের রেস্টুনেট থেকে করেছিলাম কিন্তু এরপরেও কিছু টিপস দিয়ে দিচ্ছি। 

  • হোটেল বা রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট এগুলোতে খাবারের মান তুলনামূলক ভালো থাকে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয়। বিশেষ করে সি-ফুড ট্রাই করতে চাইলে রিসোর্টের রান্নাই বেশি সুরক্ষিত।
  • জনপ্রিয় লোকাল রেস্টুরেন্ট – দ্বীপের কিছু পরিচিত লোকাল হোটেল আছে, যেখানে প্রতিদিন পর্যটক যায়। সেখানে কোরাল কারি, গ্রিলড ফিশ আর ভাত বেশ ভালো পাওয়া যায়।
  • অপরিচিত নির্জন জায়গা এড়িয়ে চলুন – খুব সস্তার লোভে এমন দোকানে খাবেন না, যেখানে খাবার ঢেকে রাখা হয় না বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নেই।
  • অর্ডার করার সময় টিপস – যদি সি-ফুড অর্ডার করেন, রান্নার সময় একটু অপেক্ষা করলেও ফ্রেশ খাবার চাইতে ভুলবেন না।

সেন্টমার্টিনে কি কি করা যাবে ও যাবে না

কী কী করা যাবে

  • নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছেঁড়াদ্বীপ ট্যুর।
  • লাইফ জ্যাকেটসহ সমুদ্রে নামা।
  • ছবি তোলা (তবে ড্রোনের জন্য অনুমতি লাগবে)।

কী কী করা যাবে না

  • রাত ৮ টার পর সৈকতে একা যাওয়া যাবে না।
  • প্রবাল ক্ষতি করা বা নিয়ে যাওয়া।
  • অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো।

সেন্টমার্টিন ট্রাভেল টিপস

দারুচিনি দ্বীপ ভ্রমণ করতে গেলে এই ট্রাভেল টিপসগুলো অবশ্যই মাথায় রাখুন।

কখন যাওয়া সবচেয়ে ভালো

বর্তমানে সেন্টমার্টিন শুধু শীতকালে খোলা থাকে, তাই শীতে সেন্টমার্টিন খুব মজার। শীতকালই সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়, কারণ আবহাওয়া থাকে আরামদায়ক। নমনীয় তাপমাত্রার সাথে পরিষ্কার আকাশ।

ভ্রমণের সময় কী কী সঙ্গে নেবেন?

ভ্রমণের সময় সাথে অবশ্যই –

  • সানস্ক্রিন
  • হ্যাট
  • সানগ্লাস
  • পানির ফ্লাস্ক
  • ভোটার আইডি কার্ড
  • পাওয়ার ব্যাংক
  • ঔষুধ যা আপনার নিয়মিত গ্রহণ করতে হয়

নিরাপত্তা নির্দেশনা (নতুন গাইডলাইন ২০২৫-২০২৬)

  • নির্দিষ্ট সময় ও লাইফ জ্যাকেট মানা জরুরি।

পরিবেশ রক্ষার টিপস

  • ভ্রমণের সময় প্লাস্টিক বর্জন করুন।
  • প্রবাল বা গাছপালা নষ্ট করবেন না।
  • গাংচিলকে চিপস বা অন্যান্য খাবার দিবেন না।

সেন্টমার্টিনে ইন্টারনেট, নেটওয়ার্ক ও জরুরি যোগাযোগ

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী নেটওয়ার্ক/জরুরি যোগাযোগ আগে থেকেই জেনে রাখুন।

কোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক ভালো?

সেন্টমার্টিনে নেটওয়ার্ক পুরোপুরি শহরের মতো স্টেবল না, এই ব্যাপারটা আগে থেকেই মাথায় রাখা ভালো। তবে আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি গ্রামীণফোন খুব ভালো কভারেজ দেয়। এয়ারটেল নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় সিগন্যাল পাওয়া যায়। বাংলালিংক নেটওয়ার্ক তুলনামূলক দুর্বল।

জরুরি ফোন নম্বর

যেহেতু সেন্টমার্টিন একটি দ্বীপ, তাই জরুরি যোগাযোগের তথ্য আগেই জেনে রাখা খুব জরুরি। যেকোনো জরুরী অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দেওয়া নম্বর “৯৯৯” এ কল করুন। সাথে নিজ হোটেল/রিসোর্ট রিসেপশন নাম্বার নিয়ে রাখুন যাতে রাতের বেলা বা হঠাৎ সমস্যায় সমাধান পাওয়া যেতে পারে।

মেডিকেল সাপোর্ট ও ফার্স্ট এইড

সেন্টমার্টিনে বড় হাসপাতাল নেই তবে লোকাল হেলথ সেন্টার বা ক্লিনিক আছে, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়া যায়। কাটা-ছেঁড়া, জ্বর, ফুড পয়জনিং, হালকা অসুস্থতায় সাহায্য মেলে। এর পরেও নিজের প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন। যদি আপনার কোনো এলার্জি বা বিশেষ শারীরিক সমস্যা থাকে, সেটা আপনার ট্রাভেল পার্টনার বা টিম লিডকে জানিয়ে রাখুন।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় আসলে কোনটা? আগে সেন্টমার্টিন অন্য সময়ে যাওয়া গেলেও এখন সেন্টমার্টিন শুধু নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে চেষ্টা করুন ডিসেম্বরের শুরুর দিকে যেতে, হালকা ঠান্ডার সাথে সমুদ্র বেশ ভালোই লাগে।

সেন্টমার্টিনে যাওয়ার শিপ কখন চলে?

সাধারণত শিপগুলো সকাল ৭:০০ থেকে ৯:৩০-এর মধ্যে কক্সবাজার জেটি থেকে ছাড়ে। ফিরতি শিপ সাধারণত দুপুর ২:৩০–৪:০০-এর মধ্যে সেন্টমার্টিন থেকে ছাড়ে। তবে আবহাওয়ার উপরে নির্ভর করে সময় পরিবর্তন হতে পারে।

শিপ টিকিট অনলাইনে বুক করা যায় কি?

হ্যাঁ, বর্তমানে বেশিরভাগ শিপ ও ক্রুজের টিকিট অনলাইনে বুক করা যায়। বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে অনলাইন বুকিং করলে –

  • টিকিট কনফার্ম থাকে
  • শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়ানো যায়
  • পছন্দের সিট বা কেবিন পাওয়া সহজ হয়
  • সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইডের জন্য আগে থেকে বুক করাই সবচেয়ে নিরাপদ অপশন।

ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়ার অনুমতি কিভাবে পাবেন?

ছেঁড়াদ্বীপে যেতে হলে নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মানতে হয়। সাধারণত –

  • স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদিত বোটেই যেতে হবে
  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাওয়া–আসা করতে হবে
  • প্রবাল স্পর্শ বা সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
  • অনেক সময় হোটেল বা ট্যুর অপারেটররাই এই অনুমতির ব্যবস্থা করে দেয়।

বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য খরচ কত হতে পারে?

একজন বাজেট ট্রাভেলারের জন্য আনুমানিক খরচ হতে পারে ৯,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকায়। শিপ ভাড়া: ৩,৫০০ – ৫,০০০ টাকা, বাজেট হোটেল: ১,০০০–২,০০০ টাকা (প্রতি রাত), খাবার: ৮০০–১,৫০০ টাকা (দিনপ্রতি)।

সেন্টমার্টিনে ক্যাশ না কার্ড, কোনটা ভালো?

সেন্টমার্টিনে ক্যাশই সবচেয়ে ভালো অপশন। কারণ, বেশিরভাগ দোকান ও হোটেলে কার্ড মেশিন নেই। সাথে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে ডিজিটাল পেমেন্ট কাজ নাও করতে পারে।

সেন্টমার্টিনে ড্রোন ব্যবহার করা কি অনুমোদিত?

না, অনুমতি ছাড়া ড্রোন ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ড্রোন ওড়াতে চাইলে, স্থানীয় প্রশাসন বা কোস্টগার্ডের অনুমতি লাগবে। অনুমতি ছাড়া ড্রোন ব্যবহার করলে জরিমানা বা ডিভাইস জব্দ হতে পারে।

সেন্টমার্টিনে মোবাইল চার্জ / পাওয়ার সমস্যা হয় কি?

হ্যাঁ, মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বা চার্জিং সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে রাতে বা লোডশেডিংয়ের সময়। তাই ট্রিপে যাওয়ার সময় অবশ্যই – পাওয়ার ব্যাংক, মাল্টিপ্লাগ বা চার্জার, ফোন ফুল চার্জ করে বের হওয়ার অভ্যাস করুন।

সেন্টমার্টিনে খাওয়ার জন্য কোন খাবার জনপ্রিয়?

সেন্টমার্টিনে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার হলো তাজা সামুদ্রিক মাছ, কোরাল কারি, স্থানীয় স্টাইলে রান্না তরকারি।

পরিবার/কাপলদের জন্য কোন রিসোর্ট ভালো?

নিরাপদ পরিবেশের কারণে সেন্টমার্টিন বাচ্চাদের সাথে ভ্রমণের জন্য সেরা জায়গা হিসেবে ধরা হয়। কোনো এরকম নির্দিষ্ট রিসোর্ট মেনশন করা সম্ভব নয়, তাই যেকোনো রিসোর্ট বুক দেবার সময় চেক করে নিন পরিবেশ নিরাপদ নাকি, রুম পরিষ্কার নাকি, নিজস্ব রেস্টুরেন্ট আছে কিনা। 

এসব দেখে রিসোর্ট বেছে নিন। মিড-রেঞ্জ বা বিলাসবহুল রিসোর্টগুলো পরিবার ও কাপলদের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক এবং ঝামেলাহীন অভিজ্ঞতা দেয়।

Index