কোলাজেন ঘাটতি হলে কী হয়? লক্ষণ ও সমাধান জানুন

এন্টি-এজিং ত্বকের জন্য কোলাজেন এর গুরুত্ব

আমাদের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন রয়েছে, সেসব এর মধ্যে কোলাজেন সবচেয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের ত্বক, হাড়, জয়েন্ট, চুল, নখ ও পেশীকে সাপোর্ট দেয়। আমাদের বয়স দিন দিন বাড়তে থাকে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন এবং স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে শরীরে কোলাজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। কোলাজেন কমে যাবার কারণে আমাদের শরীরে শারীরিক ও সৌন্দর্যজনিত সমস্যার দেখা দেয়। তাই আমাদের সকলে এর গুরুত্ব বোঝা, ঘাটতির লক্ষণ ও সমাধান জানা সবার জন্য জরুরি।

কোলাজেন কী?

এটি এক ধরনের কাঠামোগত প্রোটিন যা শরীরের সংযোগকারী টিস্যু (connective tissue) গঠনে সাহায্য করে। এটি ত্বককে টানটান রাখে, সাথে হাড়, ও জয়েন্টকে মজবুত করে পেশীকে রাখে শক্তিশালী। আমাদের শরীরের প্রায় ৩০% এর বেশি অংশ কোলাজেন দিয়ে তৈরি। আমাদের ত্বক, কার্টিলেজ, টেনডন, লিগামেন্ট এবং রক্তনালীগুলোতে কোলাজেনের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।

কোলাজেনের ধরণ

আমাদের শরীরে কোলাজেন কয়েক ধরনের রয়েছে, তবে মানব শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি ধরণ হলো – 

১. Type I Collagen – 

এই ধরণটি আমাদের শরীরে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এটি মূলত ত্বক, হাড়, দাঁত, টেনডন এবং লিগামেন্টে পাওয়া যায়।। এটি ত্বকের দৃঢ়তা ও ক্ষত নিরাময়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। 

২. Type II Collagen –  

এটি মূলত কার্টিলেজে থাকে। কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি হলো শরীরের এক ধরনের নমনীয় ও মজবুত যোজক কলা। এটি জয়েন্টকে নরম রাখে এবং হাড়ের ঘর্ষণ কমায়। 

৩. Type III Collagen – 

এটি আমাদের ত্বক, পেশি, রক্তনালী ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে থাকে। এটি ত্বকের টিস্যুর ইলাস্টিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৪. Type IV Collagen – 

এটি পাওয়া যায় আমাদের বেসমেন্ট মেমব্রেনে, এটি হলো পাতলা প্রোটিন স্তর, যা কোষকে টিস্যু থেকে আলাদা করে। এটি ত্বকের গভীর স্তরকে সাপোর্ট দেয় এবং কোষকে ধরে রাখতে সাহায্য করে।

কোলাজেনের কাজ

কোলাজেন এর উপকারিতা

১. ত্বক ও সৌন্দর্য –

কোলাজেন আমাদের ত্বককে করে টানটান ও মসৃণ রাখে। এর ঘাটতির ফলে আমাদের ত্বকে বয়সের ছাপ দেখা দেয়। পর্যাপ্ত কোলাজেন থাকলে ত্বক হয় উজ্জ্বল, মসৃণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে আপনার ত্বকের তারুণ্য  ভাব ধরে রাখে।

২. হাড় ও জয়েন্ট –

কোলাজেন হাড়ের ক্যালসিয়াম ধরে রাখে ও সুরক্ষা দেয়। কোলাজেন এর ঘাটতি আমাদের হাড় ভঙ্গুর করতে পারে এবং জয়েন্টে ব্যথা বা ফোলা দেখা যেতে পারে।

৩. চুল ও নখ –

এটি আমাদের মাথার ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, যা চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। এতে চুল আরও ঘন ও মজবুত হয় সাথে আরো দ্রুত বাড়তে পারে। এর ঘাটতিতে চুল পাতলা ও নখ ভঙ্গুর হয়।

৪. পেশি –

কোলাজেন পেশির শক্তি ও গঠন রক্ষায় কাজ করে, পেশী ও টিস্যুর পুনর্গঠনে সাহায্য করে। কোলাজেনের অভাবে পেশি দুর্বল হয়, সহজে ক্লান্তি আসে এবং শারীরিক শক্তি কমে যায়।

৫. অন্য উপকারিতা

কোলাজেন অন্যান্য অংশেও উপকারী। এটি শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে, প্রদাহ কমাতে এবং সার্বিক শারীরিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি হৃদযন্ত্রের রক্তনালীকে স্থিতিশীল রাখে, এবং হজমে সহায়তা করে।

কোলাজেন ঘাটতি হলে কি কি সমস্যা হয় ও কীভাবে ধরে রাখা যায়? 

কোলাজেন ঘাটতিজনিত সমস্যা

সমস্যা –

  • ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে, ঝুলে যায় এবং রিঙ্কেল এর দেখা দেয়। 
  • জয়েন্টে ব্যথা হয় এবং শক্ত হয়ে পড়ে।
  • হাড় এর দৃঢ়তা কমে যায় ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
  • ক্ষত সারতে বেশি সময় লাগে।
  • শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যায়।

ধরে রাখার উপায়ঃ

কিছু কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের শরীরে কোলাজেন বৃদ্ধি করা যায় এবং ধরে রাখা যায়। 

১. খাদ্যাভ্যাস

আমাদের শরীরে কোলাজেন বৃদ্ধি এর জন্য খাদ্যতালিকাতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, মুরগি, ডিম, দুধ রাখা দরকার। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন কমলা, লেবু, স্ট্রবেরি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও জিংক ও কপারযুক্ত খাবার বাদাম, বীজ, শাকসবজি আমাদের কোলাজেন বৃদ্ধি করে।

২. সাপ্লিমেন্টস

কোলাজেন বাজারে পাউডার, ক্যাপসুল বা ড্রিংক আকারেও পাওয়া যায়। কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট শরীরে দ্রুত শোষিত হয় এবং কার্যকরীভাবে কাজ করে। 

৩. লাইফস্টাইল পরিবর্তন

শুধু কোলাজেন বৃদ্ধির জন্য নয়, সঠিক লাইফস্টাইল আমাদের শরীর সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ঘুমানো, নিয়মিত টুকটাক ব্যায়াম করা আমাদের শরীরে কোলাজেন বাড়ায়। খারাপ অভ্যাস যেমন ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে যা কোলাজেন এর পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

৪. স্কিনকেয়ার পণ্য

রেটিনল, ভিটামিন সি, পেপটাইড বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ে এবং ত্বক দীর্ঘসময় টানটান থাকে।

উপসংহার

কোলাজেন আমাদের শরীরের একধরনের প্রাকৃতিক উপাদান যা ত্বক, হাড়, জয়েন্ট, পেশি ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে একসাথে ধরে রাখে। এর ঘাটতি আমাদের আমাদের ত্বকে বয়সের ছাপ সহ আরও নানান সমস্যা তৈরি করে। সঠিক খাদ্যাভাস, সুস্থ জীবনধারা ও স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করে কোলাজেন মাত্রা ধরে রাখা সম্ভব।