প্রাকৃতিকভাবে ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে চুলের যত্নে নেওয়া যায়?

Najifa Ahmed Nujha

Updated on:

প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্নে ঘরোয়া উপায়

আমরা প্রায়ই শুনে থাকি “ চুল আমাদের সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি ” কথাটি একটুও ভুল নয়। বর্তমানের দৈনন্দিন জীবনে দূষণ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আমাদের চুলের প্রচুর ক্ষতি করে। যার ফলের আমাদের চুল তার প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও চমক হারায়। 

চুলের অযত্ন ও বাহিরের দূষণের কারণে চুল পড়া, রুক্ষতা, খুশকি, ও চুলের ঘনত্ব কমার সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে, আমরা সবাই-ই এ সমস্যার সম্মুখীন হই। তবে চুলের যত্নে পার্লারই একমাত্র সমাধান? না! অনেক ঘরোয়া উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে চুলের যত্ন নেয়া সম্ভব। ঘরোয়া সমাধান গুলো কম খরচ ও সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক।

আসুন জেনে নেই কিছু চুলের যত্ন ঘরোয়া উপায়, যা চুলকে করবে  স্বাস্থ্যকর, ঘন, এবং উজ্জ্বল।

ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে চুলের যত্ন নিবেন?

a girl brushing her hair.

চুলের যত্ন বলতে আমাদের অনেকের ধারণা শ্যাম্পু এবং তেল, যা প্রাথমিক হিসেবে ঠিক আছে কিন্তু এটিই সকল কাজ করে না। একটি পরিপূর্ণ রুটিন এর মাধ্যমে আমাদের চুলের সঠিক যত্ন নেয়া সম্ভব। এখন, সঠিক রুটিন কী? একটি পরিপূর্ণ রুটিনে থাকে সঠিক ডায়েট, প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অন্তর্ভুক্ত।

চুলের যত্নে হেয়ার প্যাক

হেয়ার প্যাক আমাদের চুলের গভীরে পুষ্টি যোগায়, চুলের রুক্ষতা দূর করে, এবং চুলকে করে তোলে মজবুত। নিম্নে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি করা যায় এমন হেয়ার প্যাক দেয়া হলোঃ-

১. ডিম ও মধুর হেয়ার প্যাক

an egg and honey hair pack.

ডিম ও মধুর হেয়ার প্যাক খুবই পুরোনো এবং কার্যকরী একটি উপাদান। ডিম ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক চুলের জন্য খুবই উপকারী। ডিমে থাকা প্রোটিন চুলের গঠন মজবুত করে, আর মধু চুলকে নরম ও উজ্জ্বল করে।

হেয়ার প্যাক তৈরি করবেন যেভাবে

  • ১ টি ডিম, ২ টেবিল চামচ মধু, ও নারকেল তেল ( যদি থাকে )।
  • একটি পাত্র নিন ও তাতে ডিম টি ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিন।
  • ডিমের সাথে মধু ও নারকেল তেল ভালোভাবে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
  • মিশ্রণটি পুরো চুলে লাগান এবং ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর হালকা কুসুম পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

ডিম ও মধুর হেয়ার প্যাক উপকারিতা

  • চুলের ময়েশ্চারাইজিং হিসেবে কাজ করে।
  • চুলের গোড়া মজবুত করার পদ্ধতি হিসেবে বেশ কার্যকরী একটি সমাধান।
  • চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

এলোভেরা ও লেবুর হেয়ার প্যাক

aloevera and lemon hair mask.

এলোভেরা ও লেবুর চুলের যত্নে কার্যকর একটি সমাধান। অ্যালোভেরা চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় ও চুলের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। অন্যদিকে লেবু চুলের খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। এই দুই উপাদান এর ব্যবহারে চুল হয় প্রাণবন্ত ও স্বাস্থ্যকর।

হেয়ার প্যাক তৈরি করবেন যেভাবে

  • ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ও ওলিভ ওয়েল ( যদি থাকে )।
  • কোনো পাত্রে এলোভেরা জেল ও লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • মিশ্রণটি চুলের স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন এবং ২৫ – ৩০ মিনিট রেখে দিন।
  • পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

এলোভেরা ও লেবুর হেয়ার প্যাক উপকারিতা

  • এই হেয়ার প্যাকটি খুশকি দূর করার ঘরোয়া সমাধান।
  • চুলের গোড়া মজবুত করার পদ্ধতি হিসেবে খুব ভালো কাজ করে।
  • চুলের প্রাকৃতিক বৃদ্ধি ও উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

চুল পড়া বন্ধে আরও কিছু ধাপ, যা আপনি অনুসরণ করতে পারেন

আমাদের চুল পড়ার অন্যতম কারণ অপুষ্টি ও ভুল চুলের যত্ন। তবে চুল পড়া বন্ধ করার কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে, যা আপনি মেনে চলতে পারেনঃ-

পেঁয়াজের রস 

a glass of onion juice.

পেঁয়াজের রসে রয়েছে প্রাকৃতিক সালফার যা চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতিটি চুলের বৃদ্ধির হার বাড়ানোর ঘরোয়া পদ্ধতি হিসেবেও বেশ কার্যকর। 

হেয়ার প্যাক তৈরি ব্যবহার করবেন যেভাবে

  • একটি ভালো পেঁয়াজ নিয়ে সেটি ব্লেন্ড করুন অথবা পেষণি দিয়ে পিষে নিন।
  • ব্লেন্ড করা রস সরাসরি স্ক্যাল্পে লাগান এবং ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করা ধুয়ে ফেলুন।
  • চুলের থেকে পেঁয়াজের গন্ধ দূর করতে নারকেল তেল অথবা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে  নিতে পারেন।

মেথীর বীজ

fenugreek for hair care.

মেথীর বীজ আমাদের চুলের গোড়া মজবুত করা এবং চুলের রুক্ষতা দূর করার উপায় হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ও কার্যকর।

মেথীর বীজ ব্যবহার করবেন যেভাবে

  • ব্যবহার এর আগের দিন রাত্রে ২ টেবিল চামচ মেথীর বীজ ভিজিয়ে রাখুন।
  • সকালে ব্লেন্ডারে অথবা পিষনি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  • পেস্টটি চুলের গোড়ায় লাগান ও ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • ভালো করে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
  • সপ্তাহে অন্তত ২ বার ব্যবহার করুন, এটি আপনার চুল পড়া রোধের উপায় ভালো কাজ করবে।

রুক্ষ চুলের যত্ন নিবেন যেভাবে

a woman holding her dry and frizzy hair.

বাহিরের দূষণ, দুলাবালি, ও অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যবহারের কারণে আমাদের চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে যায়। তবে, সঠিক ঘরোয়া উপায়ে যত্নের মাধ্যমে চুলের রুক্ষতা দূর করা সম্ভব।

রুক্ষ চুলের যত্ন নেওয়ার উপায়:

  • নারকেল, অলিভ, বা আরগান তেল হালকা গরম করে চুলে ম্যাসাজ করুন এবং ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে দিন।
  • শ্যাম্পু ব্যবহার কম করুন যেন চুল তার প্রাকৃতিক তেল না হারায়।
  • নিয়মিত ডিম ও মধুর হেয়ার প্যাক বা দই ও মধুর মাস্ক ব্যবহার করুন।
  • প্রচুর পানি পানের অভ্যাস করুন।

রাতে চুলের যত্ন নিন

a woman taking care of her hair.

প্রতি সকালে ঝলমলে চুল পেতে আমাদের দরকার রাতে সঠিকভাবে চুলের যত্ন নেয়া। রাতে চুলের যত্নে চুল থাকবে স্বাস্থ্যকর ও প্রাণবন্ত।

রাতে চুলের যত্ন নিবেন যেভাবে

  • তুলোর বালিশ কভার আমাদের চুলের আর্দ্রতা কেড়ে নেয় ও চুলকে রুক্ষ করে তোলে, তাই সাটিন বা সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করুন।
  • স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে রাতে ঘুমানোর আগে চুল ব্রাশ করে ঘুমান।
  • রাতে ঘুমানোর আগে হালকা তেল ম্যাসাজ করে নিন।
  • চুলের বাধুন একটু হালকা বা ঢিল করে বাধুন যাতে ঘর্ষণের কারণে চুল দুর্বল না হয়।

চুলের যত্নে দৈনন্দিন অভ্যাস পরির্বতন

সুন্দর মজবুত ও উজ্জ্বল চুলের জন্য আমাদের প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। চুলের যত্নে জন্য আমাদের যা যা অভ্যাস পরির্বতন করা দরকারঃ-

  • চুলের জন্য আমাদের প্রয়োজন বায়োটিন, আয়রন, প্রোটিন, ওমেগা-৩ তাই প্রতিদিনের খাদ্যরুটিনে সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
  • তেল ব্যবহার করুন নারকেল তেল, অলিভ, ক্যাস্টর ও অর্গান অয়েল ব্যবহার করুন যা চুলকে করে মসৃণ ও শক্তিশালী।
  • রুটিন করে হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্তত ১ থেকে ২ বার হোমমেড হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন।
  • নিম পাতা ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ার অভ্যাস করুন, এতে চুলের খুশকি দূর হবে ও চুল পড়া কমে যাবে।

উপসংহার

সুস্থ ও ঝলমলে চুল পেতে চুলের যত্ন নেওয়ার উপায় গুলো অনুসরণ করা জরুরি। বাহ্যিক পণ্যের বাহিরে ঘরোয়া উপায় গুলো ও মেনে চলা, এতে চুল হবে আরও চমকালো ও স্বাস্থ্যকর। চুলের যত্নে অন্যান্য পণ্য কিনতে ভিজিট করুন বিউটি বুথ।